আব্দুর রশিদসহ কোন রোহিঙ্গাকেই জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে দিচ্ছেনা মিয়ানমার

৫৫

স্টাফ রিপোর্টার, রোহিঙ্গা টিভি: 

ব্দুর রশিদ (৫০) একজন জাতীয়তাবাদি রোহিঙ্গা।  ডেমোক্রেসি অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস পার্টি (ডিএইচআরপি) নামক একটি রাজনৈতিক দলের অন্যতম নেতা তিনি। তাঁর বাবা অবসর প্রাপ্ত একজন সরকারি কর্মচারি।  আসন্ন নভেম্বরে মিয়ানমারে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থীতা দাখিল করেন আব্দুর রশিদ। কিন্তু সিত্তুয়ের নির্বাচন কমিশন আব্দুর রশিদের প্রার্থীতা বাতিল করেন। বাতিলের কারন হিসেবে নির্বাচন কমিশন বলছে, আব্দুর রশিদের জন্মের সময় তার বাবা ও মা মিয়ানমারের নাগরিক ছিলেন না।

এ ব্যাপারে আব্দুর রশিদ বলেন, ‘‘আমার বাবা ও মায়ের নাগরিকত্ব প্রমাণের নথিপত্র নির্বাচন কমিশনকে দিয়েছি। আমার বাবা ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে মিয়ানমারের সরকারি চাকরিজীবি ছিলেন। কিন্তু শুধুমাত্র রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির লোক বলে বৈষম্য করে আমার প্রার্থীতা বাতিল করেছে।”

শুধু আব্দুর রশিদ নয়, আরো ৫ রোহিঙ্গার প্রার্থীতা বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ। মিয়ানমার সরকার চাইছে, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির কেউ যেন সংসদে পা রাখতে না পারে।

প্রসঙ্গত, মিয়ানমারের স্বাধীনতার পর থেকে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে দুই নারীসহ ১৭ জন রোহিঙ্গা সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। তাদের একজন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।  স্বাধীনতা লাভের পর প্রথম মন্ত্রিসভাতেও রোহিঙ্গারা ছিলেন।সর্বশেষ ২০১০ সালেও দুজন রোহিঙ্গা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কিন্তু ২০১৫ সালের নির্বাচনে কোন রোহিঙ্গাকে অংশ নিতে দেয়া হয়নি।

বার্মিজ রোহিঙ্গা অর্গানিজেশান ইউকে (ব্রোক) এর চেয়ারম্যান তুন খিন বলেন, মিয়ানমারে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে প্রত্যেকের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সমান সুযোগ থাকতে হবে। আন্তর্জাতিক দাতাদের মিয়ানমারের নির্বাচনী সংস্থাকে অর্থায়ন বন্ধ করারও আহ্বান জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ফর্টিফাই রাইটস জানিয়েছে, মিয়ানমারের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী দেয়ার ক্ষেত্রে রোহিঙ্গা নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দলগুলোর অধিকার নিশ্চিত করা উচিত। রোহিঙ্গাদের মধ্য থেকে সংসদ সদস্য হওয়া ও মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে সুযোগ দেয়া উচিত।

সংস্থাটি মিয়ানমারের জাতীয় নির্বাচনে রোহিঙ্গাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মিয়ানমার সরকারকে ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড (এনভিসি) প্রক্রিয়া বাতিল করা এবং ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করার আহ্বান জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ৮ নভেম্বর মিয়ানমারের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। এবারের নির্বাচন নানাবিধ কারনে আলোচ্য।

Comments are closed.