ওমর ফারুককে হত্যা করেছে ডাকাতরা, স্থানীয়রা মারছে সাধারণ রোহিঙ্গাদের!

১৭

বৃহস্পতিবার রাতে যা ঘটেছে :

টেকনাফ নয়াপাড়া (মুছনী) নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ত্রাস ডাকাত সর্দার সেলিম, জকির , নুর কামাল তাদের সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে জাদিমুড়ার স্থানীয় প্রভাবশালী ইয়াবা ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদের বাড়িতে দাওয়াত খেয়ে ফেরার পথে ওমর ফারুক নামের আরেক প্রভাবশালীর সাথে বিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে ডাকাতদল ওমর ফারুককে লক্ষ্য করে গুলি চালালে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। সূত্র জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) রাত আনুমানিক দশটার সময় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে টেকনাফের মুছনী, জাদিমোরা, শালবাগান এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

ডাকাতের গুলিতে নিহত যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক

সূত্র আরো জানিয়েছে, নিহত ব্যাক্তি টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুরা এলাকার মোহাম্মদ মোনাফ কোম্পানির ছেলে এবং হ্নীলা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড যুবলীগ ও জাদিমুরা এম আর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি। আশ্রিত রোহিঙ্গাদের যথেষ্ট সহায়তা করায় জাদিমুরা ক্যাম্পের রোহিঙ্গারা নিহত ওমর ফারুককে ও তার পরিবারকে বেশ সম্মান করতো।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্থানীয়দের হামলা

এদিকে ডাকাতদের হাতে ওমর ফারুক নিহত হলেও, সাধারণ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও হামলা চালিয়েছে বিক্ষুদ্ধ স্থানীয় জনগোষ্ঠি। লাঠিসোটা নিয়ে জাদীমুরাস্থ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রবেশ করে রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর, এনজিও ও প্রশাসনের অফিস ভাংচুর করেছে স্থানীয়রা। টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কের উপর টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করেছে। ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এনজিও’র গাড়ি ভাংচুর করেছে। বন্ধ করে দিয়েছে দোকান-পাট। এছাড়া শুক্রবার রাতে এবং শনিবার সকালে বেশ কয়েকটি রোহিঙ্গার আশ্রয়ঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে। এসময় নিরীহ রোহিঙ্গারা ভীতসন্ত্রস্থ ও আতংকিত হয়ে ছুটাছুটি করতে দেখা যায়।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভাংচুর করছে স্থানীয়রা।

সর্বশেষ পাওয়া তথ্যমতে, উক্ত এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। টেকনাফ ‍উপজেলার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। নিরাপত্তার স্বার্থে বন্ধ করলেও আগামী ২৫ আগস্ট থেকে আবারও সচল হবে ক্যাম্পের দাফতরিক কাজকর্ম।

ধরাছোঁয়ার বাহিরে হত্যাকারী ডাকাতরা    

হত্যাকারী ডাকাত জকির, সেলিম, নুর কামাল নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ত্রাস। তাদের ভয়ে সাধারণ রোহিঙ্গারাও থর থর করে কাঁপে। প্রশাসনের সাথে রয়েছে এসব ডাকাতের গোপন আঁতাত। ১৯৯২ সালে আশ্রিত হওয়ায় এসব ডাকাতদের দৌরাত্ম পুরো টেকনাফ জুড়ে। তাদের অস্ত্রের ঝনঝনানিতে সাধারণ রোহিঙ্গাদের ঘুম হারাম হলেও, কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়না। তাদের কু-কর্ম সম্পর্কে প্রশাসনকে কেউ গোপনে অবগত করলে, প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজসে তথ্যদাতার পরিচয় জেনে যায় ডাকাতরা। পরবর্তীতে তথ্যদাতাকেই হত্যার শিকার হতে হয় ডাকাতদের হাতে।

স্থানীয়দের ছোঁড়া ইটপাটকেলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্থ এনজিওর গাড়ি

রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন, ক্যাম্পে কখন কোন পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ব পড়বে তা গোপনে ঠিক করে দেয় এসব ডাকাতদল। বদলি হয়ে যাওয়া অনেক পুলিশ কর্মকর্তাতে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে ক্যাম্পের ডিউটিতে নিয়ে আসে ডাকাত সর্দার সেলিম। যাতে তাদের কু-কর্ম গুম, খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা অনায়াসে করা যায়।

ওমর ফারুক হত্যায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত এসব ডাকাতরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাহিরে। শনিবার (২৪ আগস্ট) ভোর রাতে টেকনাফের জাদিমোরা পাহাড়ে পুলিশের সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে যে দু’জন রোহিঙ্গা মারা গেছে তারা ওমর ফারুক হত্যা মামলার প্রকৃত আসামী কিনা তা নিয়ে যতেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তবে বন্দুকযুদ্ধে নিহতের ঘটনার সত্যতা জানিয়েছেন, টেকনাফ থানার ওসী প্রদীপ কুমার দাশ  স্থানীয়রা বলছেন, প্রকৃত হত্যাকারী ডাকাতরা পুলিশের পরিচিত। তারা ধরাছোঁয়ার বাহিরে।  কিন্তু ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা হচ্ছে।

সাধারণ রোহিঙ্গারা আতংকিত

বিক্ষুদ্ধ স্থানীয়দের মুখে পড়ে নির্দোষ সাধারণ রোহিঙ্গারা আতংকিত হয়ে পড়েছে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ ক্যাম্পগুলোর অনেক রোহিঙ্গা নারী ও শিশু হাঁউমাউ করে কান্না করছে। তারা বলছে, ‘আমরা তো কোন দোষ করিনি, আমাদের উপর কেন হামলা? ডাকাতদের হত্যার দায় আমরা কেন নিবো?”

 

 

 

 

 

Comments are closed.