করোনার টালমাটাল পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নীরব ভূমিকায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়

২৪

স্টাফ রিপোর্টার, রোহিঙ্গা টিভি: 

রোহিঙ্গা গণহত্যার তিন বছর পূর্ণ হতে আর কয়েকটা দিন বাকী মাত্র। কিন্তু এখনো বাংলাদেশে আশ্রিত কোন রোহিঙ্গার আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবাসন হয়নি। করোনা ভাইরাসের কারনে টালমাটাল পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নীরব ভূমিকায় রয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। মিয়ানমারের প্রশ্নবিদ্ধ আচরণ ও বাংলাদেশ সরকারের নানা সীমাবদ্ধতার কারনে কবে নাগাদ রোহিঙ্গারা সসম্মানে নিজ অধিকার নিয়ে স্বেচ্ছায় স্বদেশে ফিরবে তা বলা যাচ্ছেনা।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলের আরাকান রাজ্যে বার্মিজ সেনাবাহিনী (টাটমাডো)’র পূর্ব পরিকল্পিত গণহত্যার মুখে পড়ে সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এর আগে সাড়ে তিন লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয়ে ছিল। সব মিলিয়ে ১০ লক্ষাধীক রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ সাময়িক আশ্রয় প্রদান করে। কিন্তু তাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমার চুক্তিতে আবদ্ধ হলেও, রোহিঙ্গাদের অধিকারের প্রশ্নে মিয়ানমার টালবাহানা শুরু করে। অন্যদিকে অধীকারহীন মিয়ানমারে ফিরতে নারাজ রোহিঙ্গারাও।

ক্যাম্পে বসবাসরত এক রোহিঙ্গা পরিবার । ফাইল ছবি।

একদিকে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার আর অন্যদিকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন দুটিই সংকট সমাধানের পথ হলেও থমকে রয়েছে সবকিছু। জাতিসংঘের বিচার আদালতে গাম্বিয়ার করা মামলার প্রয়োজন সাপেক্ষে ফেসবুকের কাছে প্রমানাদী চাওয়া হলে, তা দিতে নারাজী জাহির করেছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। ধারণা করা হচ্ছে মিয়ানমারে ফেসবুকের জনপ্রিয়তা ও বিজ্ঞাপনী বাজার হারাতে চাচ্ছেনা আমেরিকান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক।

মার্চ থেকে বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি বেসামাল হয়ে দাঁড়ালেও, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তেমন সংক্রমণ হয়নি। যদিও রোহিঙ্গা ক্যাম্প নিয়ে করোনার ঝুঁকি ও আশংকা ছিল বেশি। দেশটিতে করোনা পরিস্থিতিতেও রোহিঙ্গাদের বিষয়ে আলাদাভাবে চিন্তা করতে হয়েছে। এক লাখ রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর ভাসানচর নামের একটি দ্বীপে স্থানান্তর করতে কাজ করছে বাংলাদেশ সরকার।

আশ্রয়দাতা সরকারের তরফ থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে রোহিঙ্গাদের বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য চাওয়া হচ্ছে। কিন্তু হাতে তোলা ডাল ভাত আর ত্রিপলের নিচে রোহিঙ্গাদের জীবন কাটানো কখনো সম্ভব না। তাই গণহত্যার বার্ষিকীর সময়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছে কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী।

Comments are closed.