মধ্য আগস্ট থেকে রোহিঙ্গাদের গণগ্রেফতার শুরু করে হানাদার বাহিনী

৪৮

স্টাফ রিপোর্টার, রোহিঙ্গা টিভি: 

বাংলাদেশ সীমান্তসহ মুসলিম অধ্যুষিত পুরো আরাকানে বাড়তি সেনা মোতায়ন ও রোহিঙ্গা পল্লী অবরোধের পর মধ্য আগস্ট থেকে রোহিঙ্গাদের গণগ্রেফতার শুরু করে সেনাবাহিনী, লুন্টিং ও বিজিপি’র সম্মিলিত যৌথবাহিনী। ২০১৭ সালের ১৩ আগস্ট বার্মা সরকারের পরিকল্পনায় এবং বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ইন্দনে আরাকান রাজ্যের রাখাইনরা রোহিঙ্গা বিরোধী বিক্ষোভ করার পর ১৪ ও ১৫ আগস্ট গণগ্রেফতারে নামে হানাদার বাহিনী।

বুথিদং ও রাথিদংয়ে গণগ্রেফতার

প্রথম দিকে বুথিদং ও রাথিদংকে টার্গেট করে রাতের শেষ প্রহরে অভিযান শুরু করে বার্মিজ হায়েনারা। এসময় অধিকাংশ রোহিঙ্গা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিল। বুথিদং জেলার ওলাফে ইউনিয়নের তিন গ্রাম  ওলাফে রোয়াগ্রী, টংরোয়া এবং কেওয়া রোয়ায় তান্ডব চালায় সৈন্যরা। এসময় নীরিহ শিশু কিশোরসহ অর্ধশতাধিক রোহিঙ্গাকে আটক করে। তাদের ব্যাপক মারধর করে সৈন্যরা।

অন্যদিকে ক্লিয়ারেন্স অপারেশনের নামে রাথিদং জেলার চৌপ্রাং এলাকার বড়বিলে হামলা চালায় সরকারি বাহিনী এসময় রোহিঙ্গা মুসলমানদের ব্যাপক নির্যাতনের পাশাপাশি মুসলমানদের পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ আলকুরআন মসজিদের অবমাননামূলক গর্হিত কাজ করে তারা অভিযানের নামে  রোহিঙ্গাদের মারধর, ঘরবাড়ি ভাংচুর, দোকান লুটপাট, আটক,  নারীদের শ্লীলতাহানী দামি জিনিসপত্র লুট করে নেয় হানাদাররা।

সেটেলার রাখাইনদের মুখে রোহিঙ্গা বিরোধী বিষবাষ্প

বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম ও বার্মার উপকূলীয় এলাকা থেকে এসে আরাকানে রোহিঙ্গাদের ভূমিতে সেটেল হওয়া রাখাইনরা সরকারের পরিকল্পনা মতো রেহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে রাজপথে নামে ২০১৭ সালের ১৩ আগস্ট  । প্রথম পর্যায়ে অসহায়ত্ব দেখিয়ে রাখাইনরা আরাকানে পূনর্বাসিত হলেও, রোহিঙ্গা নিধনের পরিকল্পনা মাফিক পুরো  আরাকান রাজ্য তাদের দাবি করে । আরাকানের বিভিন্ন শহরে রোহিঙ্গা বিরোধী মিছিল, সমাবেশ ও বিক্ষোভের মাধ্যমে হরতাল পালন করে উগ্রপন্থী রাখাইন সম্প্রদায় । তবে অনেক রাখাইন সম্প্রদায়ের লোক ‘রোহিঙ্গাদে অস্তিত্ব নিয়ে মিথ্যাচার করা থেকে নিজেদের বিরত রাখে ।

আরাকানের বিভিন্ন শহরে বৌদ্ধ ধর্ম প্রচারক ভিক্ষু ও  রোহিঙ্গা বিদ্বেষী রাখাইন রাজনৈতিক দল এএনপি’র নেতা কর্মীরা মিছিলে অংশ নেয় । অংশগ্রহণকারী রাখাইনের সংখ্যা রাজ্যে সেটেল হওয়া রাখাইনের শতকরা ৫ ভাগ হতে পারে বলে জানিয়েছে এ্যামেনেষ্টি ইন্টার‌ন্যাশনাল ।

বিক্ষোভকারীরা আরাকানে গণমানুষের সেবায় কর্মরত এনজিওদের বের করে দিতে দাবি জানান । শুধু তাই নয় জাতিসংঘের শরণারর্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনসিআরসহ মানবাধিকার সংস্থা এ্যামেনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল এর ব্যাপারে বিরূপ মন্তব্য করেন । আরাকান থেকে সংস্থাগুলোকে বিতাড়নের দাবি জানান । জাতিসংঘের মানবাধিকার দূত ইয়াংহিলি ও সরকার গঠিত আরাকান উপদেষ্ঠা কমিশনের প্রধান কফি আনানকে ধিক্কার জানান হরতাল পালনকারীরা ।

চলবে…..

 

Comments are closed.