রোহিঙ্গাদেরকে এমপি-মন্ত্রী হওয়ার সুযোগ দেয়ার আহ্বান ফর্টিফাই রাইটসের

৩৩

স্টাফ রিপোর্টার, রোহিঙ্গা টিভি: 

ডেমোক্রেসি অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস পার্টি (ডিএইচআরপি ‘র  রোহিঙ্গা সদস্য আবদুর রশিদ  মিয়ানমারের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে মেম্বার অব পার্লামেন্ট (এমপি) পদে নির্বাচন করার জন্য প্রার্থিতা দাখিল করেন। কিন্তু সিত্তুয়ের নির্বাচন কমিশন তার প্রার্থীতা বাতিল করে দিয়েছে। বাতিল করার কারন হিসেবে নির্বাচন কমিশন পত্র মারফতে জানিয়েছে,  ‘আবদুল রশিদের জন্মের সময় তার বাবা-মা মিয়ানমারের নাগরিক ছিলেন না।’

নির্বাচন কমিশন প্রদত্ত প্রার্থীতা বাতিলের কারনকে মিথ্যা বলে দাবি করেন আব্দুর রশিদ। তিনি বলেন, ‘‘আমার বাবা ও মায়ের নাগরিকত্ব প্রমাণের নথিপত্র নির্বাচন কমিশনকে দিয়েছি। আমার বাবা ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে মিয়ানমারের সরকারি চাকরিজীবি ছিলেন। কিন্তু শুধুমাত্র রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির লোক বলে বৈষম্য করে আমার প্রার্থীতা বাতিল করেছে। এ ব্যাপারে আমি আপিল করার পরিকল্পনা করছি।’’

আব্দুর রশিদ

আব্দুর রশিদের সাথে বৈষম্যের এ বিষয়টি নজরে আসে মানবাধিকার সংস্থা ফর্টিফাই রাইটসের। সংস্থাটি মিয়ানমারের জাতীয় নির্বাচনে রোহিঙ্গাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মিয়ানমার সরকারকে ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড (এনভিসি) প্রক্রিয়া বাতিল করা এবং ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করার আহ্বান জানিয়েছেন। 

ফর্টিফাই রাইটসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা ম্যাথিউ স্মিথ বলেন, ‘পরিচয় এবং নাগরিকত্ব অস্বীকার করা গণহত্যার অন্ধকার এক দিক এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তা স্বীকৃতি দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে এ বিষয়ে কাজ করতে হবে।

জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন এক রোহিঙ্গা মুসলিম। ফাইল ফটো।

বৃহস্পতিবার ফর্টিফাই রাইটস জানিয়েছে, মিয়ানমারের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী দেয়ার ক্ষেত্রে রোহিঙ্গা নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দলগুলোর অধিকার নিশ্চিত করা উচিত। রোহিঙ্গাদের মধ্য থেকে সংসদ সদস্য হওয়া ও মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে সুযোগ দেয়া উচিত।

ফর্টিফাই রাইটসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাথিউ স্মিথ বলেন, ‘ আব্দুর রশিদের প্রার্থীতা প্রত্যাখ্যান বৈষম্যমূলক এবং রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান গণহত্যার সাথে এটি সম্পর্কিত।’

প্রসঙ্গত, মিয়ানমারের স্বাধীনতার পর থেকে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে দুই নারীসহ ১৭ জন রোহিঙ্গা সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। তাদের একজন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।  স্বাধীনতা লাভের পর প্রথম মন্ত্রিসভায় রোহিঙ্গারা ছিলেন।সর্বশেষ ২০১০ সালেও দুজন রোহিঙ্গা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

Comments are closed.