রোহিঙ্গা গণহত্যায় গরম তেলে ঘি ঢেলেছে বৌদ্ধ ভিক্ষু উইরাথু

৪৮

স্টাফ রিপোর্টার, রোহিঙ্গা টিভি: 

মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় আরাকান রাজ্যের মংডু, বুথিদং ও রাথিদংয়ের রোহিঙ্গা পল্লীগুলো যখন বার্মিজ সৈন্যরা অবরোধ করে রাখে ঠিক তখনই রোহিঙ্গা বিরোধী উস্কানী দেয় বিশ্বব্যাপী বুদ্ধ সন্ত্রাসী খ্যাত, মুসলিম বিদ্বেষী বৌদ্ধ ভিক্ষু উইরাথু । সেনাবাহিনীকে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সরাসরি এ্যাকশানে যাও। এ যেন গরম তেলে ঘি ঢালার মত।

২০১৭ সালের ১১ আগস্ট রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সরাসরি এ্যাকশানে যেতে সরকারকেও প্রস্তাব দেন তিনি । বার্মার স্বাধীনতার বহু যুগ আগে আরাকানের গোড়াপত্তনকারী রোহিঙ্গা মুসলমানদেরকে ১৯৮২ সালের নাগরিক আইনের অধীনে রাজ্য থেকে বের করে দিতে বলেন তিনি । একই সাথে রোহিঙ্গা বিরোধী কর্মসূচীতে অংশ নিতে রাখাইনদের আহ্বান জানান উইরাথু ।

উইরাথু বলেন, রোহিঙ্গা বিরোধী এ্যকশানে যেতে হলে আরাকান অঞ্চলে কর্মরত দেশী-বিদেশী সকল এনজিওকে বের করে দিতে হবে।  ১৩ আগষ্ট  রোহিঙ্গা বিরোধী জনসমর্থন আদায় করতে হরতালের ঘোষণাও দেন ধর্মীয় লেবাসধারী উইরাথু।

এদিকে ওই দিন  আরাকান রাজ্যে পূনর্বাসিত রাখাইন ও মঘ সম্প্রদায় সমর্থিত রাজনৈতিক দল আরাকান ন্যাশনাল পার্টি (এএনপি)’র পক্ষ থেকে সেনা প্রধান মিং অংহ্লাইং-এর কাছে  এমন একটি আহ্বান জানানো হয় যেটিতে মংডু অঞ্চলের বৌদ্ধ ও মুসলমানদের মাঝে সাম্প্রদায়িকতা আরো বৃদ্ধি পেতে পারে । এএনপি’র সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সেনা প্রধানের সাথে নেপিদোতে সাক্ষাতকালে মংডুর বুদ্ধিস্ট রাখাইন ও রোহিঙ্গা মুসলমানদের আবাসস্থল পৃথক স্থানে করার আহ্বান জানান । সাথে আরাকান রাজ্যে উচ্চতর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতেও তাগিদ দেন ।

অন্যদিকে মংডু, বুথিদং ও রাথিদংয়ের মত  কিয়ক্ততেও বেশ কয়েকটি রোহিঙ্গা পল্লী অবরোধ করে রাখে সেনাবাহিনী।  সেসব গ্রাম থেকে কোন রোহিঙ্গাকে বাহিরে যেতে এবং গ্রামে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছিলনা । নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদী কেনা বেঁচায় রোহিঙ্গাদের উপর অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। ফলে এক প্রকার উম্মুক্ত কারাবন্দি হয়ে পড়ে রোহিঙ্গারা।

রাখাইন, সেনা, বিজিপি ও লুন্টিংয়ের চতুর্মুখী আক্রমণ ও বৌদ্ধ ভিক্ষুদের আস্ফালনে রোহিঙ্গারা বুঝতেই পারে এবার তাদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সংঘাত সৃষ্টির পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপের আশা ছাড়া তাদের আর কোন কিছু করার ছিলনা।

(চলবে….)

 

Comments are closed.